• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

সাতক্ষীরায় পুলিশকে হানি ট্র্যাপে ফেলার অভিযোগ, আলোচনায় ছাত্রলীগ নেতা

প্রতিবেদক / ৩৯ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

*সুন্দরী নারীদের ব্যবহার
*গোপন আস্তানায় ব্ল্যাকমেইল
*সোর্স পরিচয়ে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা
*মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশকে ব্যবহার

হানি ট্রাপ, প্রেমের ফাঁদ চক্রের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল মাদক অস্ত্র ও চাঁদাবাজি, সোর্স বাণিজ্যের ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস,এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা নাসির উদ্দিন ও তার অনুসারী বাহিনী সাতক্ষীরার কাটিয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কথিত সাংবাদিক অফিস খুলে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালানের নিরাপদ আস্তানা গড়ে কাজ করার অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে কালীগঞ্জ থানার নাকের ডগায় ৩,শ গজ দূরে নাজিমগঞ্জ বাজারে কথিত রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি পরিচয়ে অফিস খুলে গড়ে দীর্ঘদিন চালানো হয় সিন্ডিকেট কার্যালয়। এখানে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সোর্সের নামে চালাতো মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা। পাশাপাশি সাতক্ষীরা কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কুখ্যাত ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী ইয়ার আলী, বাহার আলী ,রেজাউল, আরিফুর রহমান উজ্জ্বল সহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে ছিল সখ্যতা। এই সুযোগে ডাকাতি, ছিনতাই কাজে অস্ত্র ভাড়া এবং বিক্রয় সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানি ট্রাপের ফাঁদে ফেলে মোট অংকের চাঁদা ও টাকা আদায় করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অর্পিতা নামে এক সুন্দরীকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাজিমগঞ্জ বাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। বিষয়টি থানা প্রশাসন জানলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে হানি ট্রাপের ফাঁদে অনেক ব্যবসায়ী টাকা খোয়ালে ও তাদের ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পায়নি কেউ। থানার অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে এই হানি ট্রাপের ফাঁদে ফেলে তার ভাড়া বাসার মধু কুঞ্জে নিয়ে ভাড়া করা ঐ সমস্ত পতিতার সঙ্গে মেলামেশা ও অন্তরঙ্গের ছবি, ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে সুবিধা মতো সময়ে ব্যবহার করতো নাসিরও তার স্ত্রী। যে কারণে থানার যাবতীয় অভিযান সহ গোপনীয় খবর ঐ সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তা, ও সহযোগীরা নাসিরের নিকট পৌঁছে দিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতো। যার জন্য প্রকাশ্যে থানার সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ালেও তাকে পুলিশ টিকেটা ছুঁতে পারেনি। এই ফাঁদে ফেলে কালিগঞ্জ থানার একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কে, হোসেন কে ব্যবহার করে নাসির তার প্রথম স্ত্রীর নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা থেকে বাঁচতে একটি ডাকাতি মামলায় প্রথম স্ত্রী মাসুরাকে শিশু বাচ্চা সহ গ্রেপ্তার করিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এইভাবে থানার বিগত ওসি এমদাদের মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার পার্টনার ও সোর্স হিসেবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে এবং তৎকালীন ওসি ইমদাদের ছত্রছায়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চালাতো গড়ে তোলা সিন্ডিকেট। কখনো পতিত স্বৈরাচারী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে নাসির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী পাখির ছবি ব্যবহার করা , কখনো পুলিশ সুপারের সঙ্গে সখ্যতার তোলা ছবি দেখিয়ে বিশ্বস্ত সোর্স পরিচয়ে পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় পুলিশ সার্কেল, ওসিদের ব্যবহার করে আসছিল। বিগত পতীত সরকারের সময় কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এখনো সাতক্ষীরায় অবস্থান করায় মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসিরকে রক্ষাকবচ হিসাবে বহাল তবিয়াদে চাকরি করে যাচ্ছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির আত্মীয় পরিচয়ে দাপোটের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেপ্তার হতে হয়নি কখনো এই অস্ত্র ও ও মাদক ব্যবসায়ীকে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে গিয়ে নগদ নারায়ণে তুষ্ট হয়ে ফিরে আসার গুঞ্জন রয়েছে। অথচ আদালতের একটি মামলার রায়ে সাজা প্রাপ্ত হয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও আদালতে ডাকাত ইয়ার আলীর ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে অস্ত্র, ও মাদক ব্যবসায়ী নাসিরের নাম আসলেও নাসিরকে গ্রেফতার না করায় উপজেলা জুড়ে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনার ঝড়। বিগত স্বৈরাচার স্বৈরশাসক আমলে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পরিচয় দানকারী ও জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ডা . কাজী এর্তেজা হাসান জজের ভোরের পাতা পত্রিকার কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে অফিস খুলে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসির ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। যে কারণে পুলিশের সঙ্গে পূর্বের সেই সখ্যতাকে পুঁজি করে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ ডাকাত ইয়ার আলী গংকে ধরতে এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বেশি সাফল্য কালিগঞ্জ থানার সহকারী উপকারীদর্শক আতিকুর রহমানের হলেও তার সাফল্যের কথা মুখে আনেননি কেউ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা