• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাড়ে সাত কিলোমিটার জার্মান পতাকা তৈরি করে আলোচনায় কৃষক আমজাদ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে লালমনিরহাটে, ভালোবাসার টানে নতুন জীবন শুরু প্রাইভেট ক্লিনিক সেরে হাজিরা দিতে আসেন ডুমুরিয়া হাসপাতালে সরকারি ডাক্তাররা জামালপুরে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন রাজশাহীর মোহনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৩ বেলকুচি বিতর্ক সংসদের কেক কেটে প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন টাঙ্গাইলে টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান কিশোরগঞ্জে বিশাল পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন চাঁদপুরে মোশারফ ফাউন্ডেশন ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত দিনাজপুর বীরগঞ্জে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির উদ্বোধন

এবার বড় মঞ্চে কি ইতিহাস গড়বেন রোনালদো?

প্রতিবেদক / ২ বার
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

৪১ বছর বয়সেও লড়ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার স্বপ্ন ছুঁতে পারবেন কি? বিশ্বকাপ জিতবেন সেই উদযাপন করার স্বপ্নই দেখছেন এবার তিনি।

নিজের সমবয়সী কিংবা বয়সে অনেক ছোটরাও তো বুটজোড়া তুলে রেখেছেন সেই কবে। এখন পুরো সময় দিচ্ছেন পরিবারকে। ‘সিআর সেভেনেরও’ সে পথেই হাঁটার কথা ছিল এতদিনে। কিন্তু আজন্ম এক স্বপ্ন তাড়া করছে রোনালদোকে।

যা পূরণ না হওয়ায় ‘শান্তির ঘুম’ দিতে পারছেন না তিনি। এ পি জে আবদুল কালামের সেই বিখ্যাত উক্তিটি হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে আরো সত্য। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘মানুষ ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন হলো সেটাই—যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’

স্বপ্ন পূরণের অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু ভাগ্য দেবতা তার পাশে ছিলেন না। তা না হলে ৫ বার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েও কেন-ই-বা সোনালি ট্রফিটায় চুমু এঁকে দিতে পারলেন না। কেউ কেউ তো একবারেই বাজিমাত করেছেন।

বিশ্ব মঞ্চে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর সেরা সাফল্য শেষ চারে খেলা। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে। পরের তিন বিশ্বকাপে শুধুই হতাশার গল্প সংগ্রহ করেছে। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয় তাদের পথচলা।

কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাই মনের দুঃখে ইনস্টাগ্রামে রোনালদো লিখেছিলেন, ‘পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও উচ্চাভিলাসী স্বপ্ন।’

রোনালদো পোস্টের শেষটা করেছিলেন এভাবে, ‘স্বপ্নটা যতদিন বেঁচে ছিল সত্যি সুন্দর ছিল।’ তখন সবার মনে হয়েছিল বিশ্বকাপে আর হয়তো দেখা যাবে না পর্তুগাল কিংবদন্তিকে। এমনটা ভাবা স্বাভাবিকই ছিল। শেষ আটে মরক্কোর কাছে হারার পর টানেলের ভেতরে শিশুদের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার দৃশ্যও তো তার ক্যারিয়ারের উপসংহারকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

সেই রোনালদোই ৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপ মাতাবেন। অমরত্বের স্বাদ পাওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন। শেষ ভালো যার সব ভালো তার করতে পাশে পাচ্ছেন দুর্দান্ত সতীর্থদের। যারা এখন ইউরোপীয় ফুটবল মাতাচ্ছেন। পিএসজির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কাণ্ডারিদের পাশে পাচ্ছেন আল নাসরের ফরোয়ার্ড। ভিতিনহা-জোয়াও নেভেস-নুনো মেন্ডেসদের সঙ্গে থাকছেন অভিজ্ঞ ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বেনার্দো সিলভা। সঙ্গে আক্রমণভাগে রোনালদোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন জোয়াও ফিলিক্স-রাফায়েল লিয়াওরা।

এবারের বিশ্বকাপের স্কোয়াডকে তাই অনেকে ‘সোনালি প্রজন্ম’ বলছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলা উইঙ্গার আন্তোনিও সিমায়েশ তাই মনে করেন এবার সোনালি ট্রফিটা তাদের শোকেসেই শোভা পাবে। পর্তুগালের সাবেক উইঙ্গার বলেছেন, ‘এই প্রজন্মের সবকিছু আছে। তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ আছে, আক্রমণভাগে নিঁখুত গোলশিকারি আছে, মিডফিল্ডে সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়ও আছে। দলে সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় না থাকলে যেকোনো অবস্থাতেই সেই দলকে সংগ্রাম করতে হয়। পর্তুগালের সে সব খেলোয়াড় আছে। তাই কখনোই গর্ব ও একতা হারানো উচিত হবে না পর্তুগালের। আশা করি, ইতিহাস গড়ার সংকল্প নিয়ে মাঠে নামবে খেলোয়াড়রা।’

ব্যক্তিগত সব পুরস্কারই রোনালদোর নামের পাশে আছে, সোনালি ট্রফিটা ছাড়া। কিছু রেকর্ডে তো তার ধারেকাছে নেই কেউই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ২২৬ ম্যাচ খেলার সঙ্গে গোলের রেকর্ডটাও তার (১৪৩)। প্রথম ফুটবলার হিসেবে হাজার গোলের পথেও আছেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। পেশাদার ক্যারিয়ারে তার গোলের সংখ্যা এখন ৯৭৩।

রোনালদোর তাই এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পালা। যেমনটা ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’ দেখিয়ে কাতার বিশ্বকাপে তারই চিরপ্রতিন্দন্দ্বী লিওনেল মেসি স্বর্গের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা