নিজের সমবয়সী কিংবা বয়সে অনেক ছোটরাও তো বুটজোড়া তুলে রেখেছেন সেই কবে। এখন পুরো সময় দিচ্ছেন পরিবারকে। ‘সিআর সেভেনেরও’ সে পথেই হাঁটার কথা ছিল এতদিনে। কিন্তু আজন্ম এক স্বপ্ন তাড়া করছে রোনালদোকে।
যা পূরণ না হওয়ায় ‘শান্তির ঘুম’ দিতে পারছেন না তিনি। এ পি জে আবদুল কালামের সেই বিখ্যাত উক্তিটি হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে আরো সত্য। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘মানুষ ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন হলো সেটাই—যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’
স্বপ্ন পূরণের অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু ভাগ্য দেবতা তার পাশে ছিলেন না। তা না হলে ৫ বার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েও কেন-ই-বা সোনালি ট্রফিটায় চুমু এঁকে দিতে পারলেন না। কেউ কেউ তো একবারেই বাজিমাত করেছেন।
কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাই মনের দুঃখে ইনস্টাগ্রামে রোনালদো লিখেছিলেন, ‘পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও উচ্চাভিলাসী স্বপ্ন।’
রোনালদো পোস্টের শেষটা করেছিলেন এভাবে, ‘স্বপ্নটা যতদিন বেঁচে ছিল সত্যি সুন্দর ছিল।’ তখন সবার মনে হয়েছিল বিশ্বকাপে আর হয়তো দেখা যাবে না পর্তুগাল কিংবদন্তিকে। এমনটা ভাবা স্বাভাবিকই ছিল। শেষ আটে মরক্কোর কাছে হারার পর টানেলের ভেতরে শিশুদের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার দৃশ্যও তো তার ক্যারিয়ারের উপসংহারকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
সেই রোনালদোই ৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপ মাতাবেন। অমরত্বের স্বাদ পাওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন। শেষ ভালো যার সব ভালো তার করতে পাশে পাচ্ছেন দুর্দান্ত সতীর্থদের। যারা এখন ইউরোপীয় ফুটবল মাতাচ্ছেন। পিএসজির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কাণ্ডারিদের পাশে পাচ্ছেন আল নাসরের ফরোয়ার্ড। ভিতিনহা-জোয়াও নেভেস-নুনো মেন্ডেসদের সঙ্গে থাকছেন অভিজ্ঞ ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বেনার্দো সিলভা। সঙ্গে আক্রমণভাগে রোনালদোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন জোয়াও ফিলিক্স-রাফায়েল লিয়াওরা।
ব্যক্তিগত সব পুরস্কারই রোনালদোর নামের পাশে আছে, সোনালি ট্রফিটা ছাড়া। কিছু রেকর্ডে তো তার ধারেকাছে নেই কেউই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ২২৬ ম্যাচ খেলার সঙ্গে গোলের রেকর্ডটাও তার (১৪৩)। প্রথম ফুটবলার হিসেবে হাজার গোলের পথেও আছেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। পেশাদার ক্যারিয়ারে তার গোলের সংখ্যা এখন ৯৭৩।
রোনালদোর তাই এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পালা। যেমনটা ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’ দেখিয়ে কাতার বিশ্বকাপে তারই চিরপ্রতিন্দন্দ্বী লিওনেল মেসি স্বর্গের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।