• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁর পত্নীতলায় পুকুরের পানিতে ডুবে ১৮ মাসের শিশুর মৃত্যু দোগাছী কুলনিয়ায় শিশু কলি হত্যা: ৭ দিন পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২ অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধে খামারিদের সচেতন হওয়ার আহ্বান উপনির্বাচনেও সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই স্থানীয় নির্বাচন আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক লেক দূষণ রোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাস থেকে ৭৭৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী গ্রেফতার কালীগঞ্জে বিএনপি’র পেশাজীবী দলের কমিটি গঠন সম্পন্ন সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ দুর্নীতির অভিযোগে বিপিএলের দুই কর্মকর্তা সাময়িক নিষিদ্ধ

বদলির দেড় মাস পরও বহাল প্রধান সহকারী, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

প্রতিবেদক / ২১ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলির আদেশ জারির প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামান এখনো আগের কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে একই আদেশে ওই পদে পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তা শাহিন ইসলাম এখনো নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৪ মে ২০২৬ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং: স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/৩য় শ্রেণী-৩৯/২৬/১৮-১৯/১(১৩) শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামানকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। একই আদেশে উচ্চমান সহকারী শাহিন ইসলামকে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে পদায়ন দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত ওই আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিন কর্ম দিবসের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি প্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আদেশ জারির প্রায় দেড় মাস পরও এস এম কামরুজ্জামান শজিমেক হাসপাতালেই দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালের একাধিক সূত্রের দাবি, তাকে ওই পদে বহাল রাখতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা তার পক্ষে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি রাজনৈতিক পর্যায়েও যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা- কর্মচারীর প্রশ্ন, সরকারি বদলির আদেশ থাকা এবং বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও কী কারণে তাকে এখনো ওই পদে বহাল রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, “এস এম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এর আগেও আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল,
গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তার ছবিসহ কথিত ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শজিমেক হাসপাতালের সামনে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়”।

সূত্রগুলো বলছে, প্রধান সহকারী হিসেবে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে এস এম কামরুজ্জামানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এছাড়া পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

তবে, বদলির আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব, অটো রিলিজের বিধান কার্যকর না হওয়া এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর মোর্শেদ বলেন,
বদলির আদেশের পর কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এস এম কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা