• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

জলাবদ্ধতায় কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষা স্থগিত, চরম দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদক / ৩৩ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

​এ.এস.এম হামিদ হাসান,
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও মাঠে এখন হাঁটু সমান পানি। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। মাঠের পানি উপচে পড়ার কারণে বর্তমানে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলার আরও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিশাল খেলার মাঠটি এখন থইথই পানিতে নিমজ্জিত। এর ফলে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পাশের মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতেও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। একদিকে পরীক্ষা স্থগিতের হতাশা, অন্যদিকে নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াতের ভোগান্তি—সব মিলিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে।

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানিনিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে শুধু যাতায়াতই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়ে উঠছে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

​টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় বৃষ্টি থামলে পানি নামলেও, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পানি সরছে না। এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও পোশাকশ্রমিকরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং থমকে গেছে কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

​বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক হামিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”পরীক্ষার কারণে সকালে সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা ও স্কুলজুড়ে পানি থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। প্রতিটি মোড়ে যানজট আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাচ্চাদের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।”

​কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার প্রস্তুতির মানসিক চাপের মধ্যে এই প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভিজে কাপড়ে কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে এই জলাবদ্ধতার সমস্যা চলে আসলেও তা নিরসনে স্থায়ী বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি বিদ্যাপীঠের এই দশা হয়, তবে শিক্ষার পরিবেশ কীভাবে বজায় থাকবে? তারা অনতিবিলম্বে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

​কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ জানান, “টানা বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কক্ষ ও মাঠে পানি জমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি বিঘ্নিত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমাদের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা