চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
দুরারোগ্য অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ১৫ বছর বয়সী মো. আব্দুল্লাহ আল সাজিদ বাঁচতে চায়। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত বোনম্যারো (অস্থিমজ্জা) প্রতিস্থাপন করা গেলে সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তবেই পূরণ হবে তার কুরআনের হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন।
সাজিদ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের থানাপাড়া এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন ও মোছা. খায়রুম মনিরা দম্পতির বড় ছেলে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তাকে হাফেজি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। সেখানে সে ইতোমধ্যে পাঁচ পাড়া কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবার জন্ডিসে আক্রান্ত হয় সাজিদ। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে মাদ্রাসায় ফিরলেও ২০ দিনের মাথায় আবার জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। পরে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেপাটোলজি বিভাগে নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রথমে হাইপোপ্লাসিয়া এবং পরে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, এ রোগের চিকিৎসার তিনটি ধাপ রয়েছে—ওষুধ প্রয়োগ, এটিজি (ATG) ইনজেকশন এবং সর্বশেষ বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। ইতোমধ্যে প্রথম দুই ধাপের চিকিৎসায় প্রায় তিন বছর ধরে ৩০ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করেছেন সাজিদের বাবা।
সাজিদের বাবা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করেছি, ঋণও করেছি। এরপরও চিকিৎসা শেষ হয়নি। এখন চিকিৎসক দ্রুত বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দিয়েছেন।”
তিনি জানান, ছোট ছেলের বোনম্যারো পরীক্ষা করে মিল পাওয়া গেছে। তবে দ্রুত ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। সর্বশেষ সম্বল বিক্রি করেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জোগাড় করা সম্ভব হবে। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব।
জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে সাজিদের পরিবার।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
মো. সাজ্জাদ হোসেন (সাজিদের বাবা)
বিকাশ: ০১৯১৩-৮৮৮৮৫৩
সোনালী ব্যাংক, চিলমারী শাখা
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ৫২০৪৩০১০২১৬২৮