নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
কাঁচামাল সংকটে ২২ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড আবারও চালু হতে যাচ্ছে। নতুন করে ক্রুড অয়েল আমদানি শুরু হওয়ায় শিগগিরই উৎপাদনে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে ‘এমটি নাইনমিয়া’ নামের একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করেছে। তেল খালাসের পর শোধনাগারটি পুনরায় চালু করা হবে।
আগামী ৭ মে থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ভাড়া করা এই ট্যাংকারটি গত ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে ক্রুড অয়েল লোড করে এবং ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, ইয়ানবু থেকে আনা এই ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল খালাসে ৯ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।
তেলবাহী জাহাজটি কুতুবদিয়ায় পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা তেলের মান যাচাই করেন। এরপর শুরু হয়েছে লাইটারিং প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডলফিন জেটিতে আনা হবে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তা ইস্টার্ন রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে পৌঁছাবে।
বিপিসি জানায়, এই চালান থেকে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত এই তেল প্রায় ২৫ দিন শোধনাগারের চাহিদা মেটাবে।
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কাঁচামাল সংকটে রিফাইনারির দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়িয়ে জ্বালানি আমদানির কৌশল নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরও একটি ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল চালান মে মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।