• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

‘ডিপজল আমেরিকা’ আইডির বিরুদ্ধে আইনি অ্যাকশন

প্রতিবেদক / ১৪ বার
আপডেট : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

মোঃ শাহিন , চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ‘ডিপজল আমেরিকা’ নামের একটি ফেসবুক ফেক আইডি অন্যতম। এমন অপপ্রচারের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ এই চক্রের অপপ্রচারের শিকার হয়ে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে নাচোল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নাচোল সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন (জিডি নং- ৭১৬, ট্রাকিং নং- BINYIF)।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কালইত এলাকায় নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে মো. ফারুক হোসেন তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে ফেসবুকে প্রবেশ করে ‘Dipjol America’ নামের একটি আইডিতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের দ্বারা ছড়ানো কিছু বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখতে পান। সেখানে তার নিজের নামসহ নাচোল উপজেলার বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের নামে অপপ্রচার, হুমকি এবং অশ্লীল গালাগাল করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও উক্ত আইডি পরিচালনাকারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে না পারায়, ভবিষ্যতে তথ্য-উপাত্ত সাপেক্ষে মামলার প্রস্তুতি হিসেবে আপাতত থানায় এই সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নাচোল ও আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। এমনকি উড়ো চিঠি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোনিং) করেও প্রতারণা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার এখন নতুন ধরনের সামাজিক সন্ত্রাসে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভয়েস ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান, ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির শিকার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে, অপরাধে নয়।”

সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান বলেন, “ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইল কোনো সাংবাদিকতা নয়, এটি স্পষ্ট সাইবার অপরাধ। দ্রুত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”

প্রবীণ সাংবাদিক কে. এম. জিলানী মন্তব্য করেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছড়ানোর প্রবণতা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এ ধরনের অপকর্মের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেট জড়িত। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।

আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস না করা এবং সন্দেহজনক আইডি বা কনটেন্ট দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করা এখন নাগরিক দায়িত্ব। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা