হাফিজুররহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা থেকে খালাস পেতে সাবেক এসপি, ওসির উপর প্রভাব খাটিয়ে কালিগঞ্জ থানার এসআই কামাল ও ডিবি পুলিশের ১৫ সদস্যের দল নিয়ে নাটকীয় ও ফিল্মি স্টাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে মামলার বাদী মাসুরা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে কোলের শিশু সন্তান সহ আটক করে একটি ডাকাতি মামলায় অজ্ঞাত আসামী করে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। অথচ স্বামী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অস্ত্র ও মাদক কারবারি নাসির উদ্দিনের নামে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় নাম থাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে এমনই চঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে সাবেক পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, কালীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি হাফিজুর রহমান ও এস আই কামালে সহ বাদীর কথোপকথনের সূত্র থেকে। সাবেক এসপি, ওসির উপর প্রভাব ঘাটিয়ে মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা মাদক অস্ত্র কারবারি নাসির উদ্দিন তার স্ত্রী শিশু সন্তানকে একটি অজ্ঞাত ডাকাতি মামলায় জেলে ভরে নিজে এবং পুরা পরিবার এই মামলা থেকে খালাস পেয়েছে। এ বিষয়ে তার প্রথম স্ত্রী শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের আবু বক্কারের কন্যা মাসুরা খাতুন পুলিশের আইজিপি, বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার বরাবর বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ আলোচিত মাদক কারবারি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসিরের বিরুদ্ধে রয়েছে থানায় প্রায় ডজন খানেক জিডি, সাইবার, পর্নোগ্রাফির, অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সচেতন মহল। ২০১৫ সালে কালীগঞ্জ থানায় তৎকালীন ওসি এমদাদ যোগদানের পর থেকে নাসিরকে ছাত্রলীগ বানানো এবং পরবর্তীতে ওসির প্রভাবে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ কিনে দিয়ে নিজের অর্থ, ঘুষ আদায়ের বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন করে। সেই সুবাদে ওসি এমদাদের সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে শত শত বিএনপি, জামায়তের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার, ক্রসফায়ার, মামলার ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ, উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে এই নাসিরের বিরুদ্ধে। এ কাজে ব্যবহারের জন্য শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের আবুবক্কারের কন্যা মাসুরার সঙ্গে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তুলে পালিয়ে সাতক্ষীরা কাটিয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। সেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনে প্রতিবাদ করায় গর্ভে ৬ মাসের সন্তান থাকা অবস্থায় নাসির স্ত্রী মাসুরাকে পিটিয়ে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে ওসি ইমদাদের নিকট গেলে অভিযোগ না নিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে বিয়ে অস্বীকার করায় কোলে শিশু কন্যা সন্তান নিয়ে পিতৃত্বে ও বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতো থাকে। এরই মধ্যে ওসি এমদাদ বদলি হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় যাওয়ার সুযোগে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় ছাত্রলীগ স্ত্রী মাসুরা বেগম বাদী হয়ে গত ২৬/১/১৮ ইং তারিখে স্বামী নাসির উদ্দিন, শশুর বাশারাতুল্লাহ, শাশুড়ি নুরুন্নাহার এবং দেবর মোহন সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ (১১) (গ) ৩০ ধারায় কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। কালিগঞ্জ থানার মামলা নং- ১৬। জিআর ১৬/১৮। মামলা দায়েরে পুলিশ শ্বশুর, শাশুড়ি এবং দেবরকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠালেও স্বামী নাসির থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলার তদন্তে সত্যতা পেয়ে তৎকালীন মামলার তদন্তকারী উপ-পরিদর্শক ফণীভূষণ সরকার আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১৬/৬/১৮ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে ৮৯ নং অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা নাসির ও তার দোসর তৎকালীন ওসি এমদাদের সহায়তায় স্ত্রীর মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে শ্যামনগর থানার বাধঘাটা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী গোলাম আযমের নিকট থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় শ্যামনগর থানার এ এস আই রফিকুল ইসলামের দায়ের করা মাদক মামলায় আসামি দেখিয়ে স্ত্রী মাসুরাকে কোলের শিশু সন্তানসহ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এতেও খ্যান্ত না হয়ে পরবর্তীতে ২০২৩ সালে শ্যামনগর থানার এস,আই পিংকু মন্ডল কে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে আবারো ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখাইয়া গত ৩০/১/২৩ ইং তারিখে এস আই পিংকুর মাদক উদ্ধারের দায়ের করা মামলায় মাসুরাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। মামলা নং ৩১। জিআর ৩১/২৩। এরপর ছাত্রলীগ নেতা নাসির পাওখালি কাঠমিস্ত্রি রউফের স্ত্রী এবং প্রবাজপুর গ্রামের কানা অলিউল্লাহর কন্যা আজমিরা সুলতানা পাখিকে বিয়ে করে জেলা মহিলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে হানি ট্রাপ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার আস্তানা গড়ে তোলে। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলার বিচারের শেষ পর্যায়ে সাক্ষী গ্রহণের সময় কালিগঞ্জ থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের মধুসূধন কর্মকারের বাড়িতে একটি ডাকাতি মামলায় অজ্ঞাত আসামী হিসেবে মামলার বাদী স্ত্রী মাসুরা ও তার শিশুসন্তানকে জেল হাজতে আটকে আদালতে অনুপস্থিতির কারণে গত ১৭/৭/২৫ তারিখে খালাস পায়। কৃষ্ণনগরের আওয়ামী লীগ নেতা অমল মাস্টারের জমি দখলের জন্য ডাকাত ইয়ার আলীর নিকট, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় ১ টি নাইন এমএম পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি নাসিরের নিকট থেকে কিনে নেওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দেওয়া ডাকাত ইয়ার আলীর ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিতে নাম আসলেও পুলিশ আজ পর্যন্ত নাসিরকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। পুলিশ সুপার বরাবর মাসুরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারি পুলিশ সুপার দেব হাটা সার্কেলের নিকট পাঠায়। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ১৫-৭-২৬ তারিখে নোটিশের মাধ্যমে বাদী মাসুরা কে সকাল ১০ টায় হাজির থাকতে বলা হলেও রহস্যজনক কারণে নির্ধারিত দিনে ও সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তার কার্যালয়ে না পাওয়ায় বাদী এক সপ্তাহ যাবৎ হয়রানি হয়েছে বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। বিষয়টি নিয়ে অস্ত্র ও মাদক কারবারি ছাত্রলীগ নেতা নাসির বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভাড়া করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে সচেতন মহল।