নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭ জন কোটিপতি পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। তাদের মধ্যে ২০ জনের পরিবারের সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি এবং ১৭ জনের পরিবারের সম্পদ এক থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হল-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সুজন জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সংসদ সদস্যদের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সম্পদ ও আয়ের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ কোটির বেশি সম্পদ রয়েছে এমন ২০ জন সংসদ সদস্যের পরিবারের মধ্যে ১৯ জন বিএনপি এবং একজন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের। অন্যদিকে এক থেকে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে ১৭ জনের পরিবারের, যাদের মধ্যে বিএনপির ৮ জন এবং জামায়াত জোটের ৯ জন রয়েছেন।
এছাড়া মাত্র দুইজন সংসদ সদস্যের পরিবারের সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার নিচে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের একজন বিএনপির এবং অন্যজন জামায়াত জোটের। একজন সংসদ সদস্য আবার হলফনামায় সম্পদের তথ্যই উল্লেখ করেননি।
সংসদ সদস্যদের পারিবারিক আয়ের হিসাবেও বড় বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। সর্বোচ্চ আয়কারী ১০ পরিবারের সবাই বিএনপির সদস্য। এর মধ্যে বছরে এক কোটি টাকার বেশি আয় রয়েছে চার সংসদ সদস্যের পরিবারের। তারা হলেন শামীম আরা বেগম, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা এবং আন্না মিনজ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১০ জন সংসদ সদস্যের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে। এর মধ্যে চারজনের পরিবারের দায় এক কোটি টাকার বেশি। তারা হলেন সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরীন সুলতানা এবং নিপুণ রায় চৌধুরী। তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত।
সুজনের তথ্যমতে, নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর এবং ১৪ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী। পেশাগত পরিচয়ে ১৩ জন আইনজীবী এবং ১০ জন ব্যবসায়ী।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ছয়জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। অতীতে মামলা ছিল ২১ জনের বিরুদ্ধে। একজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০২ ধারায় মামলা রয়েছে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতির সংস্কারের জন্য কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে সুজন। এর মধ্যে রয়েছে—সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা চালু করা, নারী প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে মনোনয়ন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সাধারণ আসনেও নারীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানো হয়।