নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও তুষারধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। প্রবল পানির স্রোত ও কাদার ঢলে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের বরাতে জানা গেছে, বুধবার রসুয়া এলাকায় এই দুর্যোগ আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত ৯৫ জন নিহত এবং ৩৪১ জন পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
দুর্যোগে রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু ও কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে নেপাল পুলিশের ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। পাশাপাশি চীনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ভূমিধসের প্রভাবে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, তুষারধস বা পাহাড়ধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধারকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।