• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

পাহাড়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত, কাজুবাদাম চাষে সফল রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র

প্রতিবেদক / ১৬ বার
আপডেট : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে কাজুবাদাম চাষ। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবার পরীক্ষামূলকভাবে কাজুবাদাম চাষে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। গবেষণা কেন্দ্রের দুই একর জমিতে লাগানো গাছগুলোতে এ বছর ব্যাপক ফলন এসেছে, যা পাহাড়ি কৃষিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সোমবার সকালে গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাগানো কাজুবাদাম গাছে ঝুলছে অসংখ্য ফল। সবুজ পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকায় কাজুবাদামের এই সমাহার যেন প্রকৃতির বুকে এক ভিন্ন সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করেছে।
গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসসকে জানান, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে গবেষণা কেন্দ্রের দুই একর জমিতে রোপণ করা হয়।

তিনি বলেন, রোপণের তিন বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স সাত বছরের বেশি এবং আগের তুলনায় এখন প্রতিটি গাছে অনেক বেশি ফল ধরছে।

ড. জিয়াউর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে বাদামজাতীয় ফসলের মধ্যে কাজুবাদামের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি ফলের ওজন ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম এবং বাদামের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, কাজুবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি ও সি। এছাড়া ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারোটিনয়েডের উপস্থিতি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নয়ন, ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর জমি এখনো অনাবাদী রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র এক লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা গেলে বছরে প্রায় এক লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন সম্ভব।

তাদের মতে, দেশে উন্নতমানের কাজুবাদাম উৎপাদন শুরু হলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি এই শিল্পকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং বিশেষ করে পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্ভাবনাময় এই খাতকে সম্প্রসারণে এখন প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং বাণিজ্যিকভাবে কাজুবাদাম চাষে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা