নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
তিনি বলেন, “যখন দেশে ৩০০ আসনের সংসদ গঠন করা হয়েছিল, তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি।
বর্তমানে সেই সংখ্যা ২০ কোটিরও বেশি। তাই জনসংখ্যার অনুপাতে সংসদ সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।”
জাতীয় সংসদ ভবনে হুইপের কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ দুলু বলেন, দেশের মানুষ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।
জনগণ এখন শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার রাজনীতি প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আর ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে দেশে যে সন্ত্রাস, নির্যাতন ও দখলদারির রাজনীতি চলেছে, জনগণ তার পরিবর্তন চেয়েছে। এবার মানুষ অনেক আশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।”
সংসদকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার সংসদীয় কার্যক্রমকে প্রাণবন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলেও মত দেন তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হুইপ দুলু বলেন, “আমাদের ভুলত্রুটি থাকলে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তা তুলে ধরবেন। আমরা সংশোধিত হব। যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হই, তাহলে আগামী নির্বাচনে জনগণই আমাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”
বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তার কারাজীবনের সূচনা হয়। এরপর ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, খুব অল্প বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি মনে করতেন, জাতীয় সংসদই দেশের প্রাণকেন্দ্র এবং এখান থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল সিদ্ধান্ত আসা উচিত।
ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সীমিত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “তখন আমরা ঠিকভাবে কথা বলতে পারতাম না। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকেও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘ সংগ্রামের পর মানুষ আজ ভোটের অধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে।”
নাটোর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য ছাত্র, শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ না হলে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যেত।
সংসদ পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন সরকারি দলের কোনো আচরণে বিরোধী দলের সদস্যরা বিব্রত না হন বা সংসদ বর্জনের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার গত দুই মাসে যেভাবে সংসদ পরিচালনা করেছেন, তাতে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিবাচক ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।