নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পুলিশ সদস্যদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল, ঝুঁকি ভাতা এবং ওভারটাইম ভাতাসহ একাধিক দাবি উত্থাপিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায়। একই সঙ্গে চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে ধাপে ধাপে অনারারি পদোন্নতির দাবিও জানান তারা।
রোববার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছে পুলিশ সদস্যরা। তাদের মতে, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো পুলিশের জন্যও পৃথক বেতন কাঠামো প্রয়োজন, কারণ তারা সরাসরি জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।
সভায় পুলিশ সদস্যরা যানবাহন সংকট, তদন্ত ব্যয় বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ের কাজের জটিলতা নিয়েও কথা বলেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রমে নিয়োজিত উপ-পরিদর্শকদের জন্য যানবাহন সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ ও জ্বালানি সহায়তার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের জন্য আলাদা ভাতা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য ওভারটাইম ভাতা প্রদানের বিষয়েও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় অংশ নেওয়া এক নারী কনস্টেবল চাকরি শেষে অন্তত একটি ধাপ পদোন্নতির মাধ্যমে অবসরে যাওয়ার দাবি জানান। তার মতে, সেনাবাহিনীর মতো পুলিশেও কনস্টেবল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে পদোন্নতির সুযোগ থাকলে তা সদস্যদের জন্য উৎসাহজনক হবে এবং এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়বে না।
একজন অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, থানা, ব্যারাক ও ফাঁড়ির অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সভায় তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ পদক সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বিষয়ে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেননি। প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।