নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আরও দুইটি হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। জামিন পাওয়া মামলাগুলো রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলা, যা ‘জুলাই আন্দোলন’ সময়কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়।
আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, নতুন করে দুই মামলায় জামিন পাওয়ার ফলে তার মুক্তির ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই। এর আগে তিনি আরও পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শাহবাগ থানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরবর্তীতে কয়েক দফা শুনানির পর হাইকোর্ট বিভিন্ন মামলায় জামিন প্রদান করে। পরে রাষ্ট্রপক্ষ এসব জামিন স্থগিতের জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। পরবর্তীতে তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।