• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মির্জাপুরে রাতের আঁধারে নাগরপাড়া নদীতে অবৈধ ড্রেজারে বালু-মাটি উত্তোলন ভোক্তা-অধিকারের অভিযান খুলনায় ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা সোনারগাঁয়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার অপহরণের তিন দিন পর উদ্ধার রোহিঙ্গা শিশু রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের নতুন আমির মোহাম্মদ আলমগীর বরিশাল পোর্টরোডে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা,২৫ হাজার টাকা জরিমানা গোমস্তাপুরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সার বিক্রির দায়ে সার ডিলারকে জরিমানা ও ম্যানেজারকে কারাদণ্ড রায়পুরে বিএনপি নেতাসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম, গণপিটুনিতে আহত হামলাকারী আটক চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার জাইকা অনুদান

চমেকে ডায়ালাইসিস সংকট কাটছে, ৬ মাস বাড়ছে স্যান্ডরের চুক্তি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম / ১৩ বার
আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

“৬২১ টাকায় সেবা পাবেন ২৭৬ রোগী, স্বস্তি ফিরেছে কিডনি রোগীদের”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে। রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ভর্তুকিতে মাত্র ৬২১ টাকায় ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়া ২৭৬ জন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আগামী ২৯ নভেম্বর স্যান্ডরের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত বছরের ২৫ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চুক্তি শেষ হলে বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এতে বিপাকে পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন স্বল্প আয়ের কিডনি রোগীরা।
এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ডায়ালাইসিস সেন্টার রক্ষা কমিটি। সেখানে ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন মেশিন স্থাপন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। এ সময়ে চিকিৎসাসেবা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সেন্টারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অথবা বিকল্প কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পিপিপির আওতায় ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চমেক হাসপাতালে দুটি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করে স্যান্ডর। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চমেক হাসপাতালে ৩১টি মেশিনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালু করে।

বর্তমানে সরকারি ভর্তুকিতে দরিদ্র রোগীদের প্রতি সেশনে দিতে হয় ৬২১ টাকা। অথচ বেসরকারিভাবে প্রতি সেশনের খরচ ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা। সিঙ্গেল ডায়ালাইজারের জন্য দিতে হয় ১ হাজার ৩২০ টাকা। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও অতিদরিদ্র কিছু রোগী বিনামূল্যে এ সেবা পেয়ে থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বছরে ৬৫০ জন রোগীকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার সুযোগ পায়। একজন রোগী মাসে সর্বোচ্চ আটটি সেশন নিতে পারেন।

গতকাল দুপুরে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বেডে চলছে রোগীদের ডায়ালাইসিস। অপেক্ষমাণ কক্ষে বসে আছেন স্বজনেরা। সেবাগ্রহীতাদের অধিকাংশই দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রোগীরা। তাদের ভাষ্য, ডায়ালাইসিস বন্ধ হয়ে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো। কিডনি রোগের চিকিৎসা এমনিতেই ব্যয়বহুল। ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ কিনতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। অধিকাংশ রোগীর মাসে আটটি পর্যন্ত ডায়ালাইসিস সেশন প্রয়োজন হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন আজাদীকে বলেন, পিপিপির আওতায় স্যান্ডরের মাধ্যমে চমেক হাসপাতালে দরিদ্রসহ বিভিন্ন শ্রেণির কিডনি রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন। চলতি নভেম্বরের শেষে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে আরও ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ধিত এ সময়ের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই স্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য মেশিন কেনা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হাসপাতাল পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি সেশনে ডায়ালাইসিসের প্রকৃত খরচ ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা। এর মধ্যে রোগীরা দিচ্ছেন ৬২১ টাকা, বাকি অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে। স্যান্ডর প্রতিবছর সেবার মূল্য ৫ শতাংশ হারে বাড়ায়। প্রতিষ্ঠানটি শুধু যন্ত্রপাতি ও জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের ব্যয় বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে প্রতি সেশনে রোগীদের খরচ কমে ৪১৬ টাকায় নেমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা