সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বান্দরবানের লামায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রকাশিত স্টিকার বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে তথ্য অফিস, লামার আয়োজনে ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ক নারী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সোমাইয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আশরাফ এবং আলীকদম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জুয়েল নূর খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাশেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সোমাইয়া আক্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষা, ছেলে-মেয়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি মানব পাচার, মাদক, গুজব, অপপ্রচার, ইভটিজিং, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, অপরাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জন্মনিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজে ও স্বল্প সময়ে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। নাগরিক সেবা পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হলে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাশেল ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম ও ডাবের খোসাসহ পানি জমতে পারে এমন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও জানান, জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে শিশুর জন্মনিবন্ধন বিনামূল্যে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত বা পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের সরকারি সুযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সহায়তা পেতে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নির্যাতনের শিকার দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের নীরব না থেকে সরকারি লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সচেতনতামূলক স্টিকার বিতরণ করা হয়।
সমাবেশে স্থানীয় নারী জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।