নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের একপেশে ইতিহাস ও বিভিন্ন বিচ্যুতি সংশোধন করে পাঠ্যবইয়ে নিরপেক্ষ ও বাস্তব তথ্য তুলে ধরার কাজ চলছে।
জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ চলছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের সব বীর নায়কের অবদান যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহও যুক্ত করা হবে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, এই পরিমার্জন কার্যক্রমে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টি বই নিয়ে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞ দলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে এ বিষয়ে একটি আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জন শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া যায়।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও আনন্দময় ও কার্যকর করতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বই যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।
এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষাভিত্তিক নতুন বই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে বড় পরিবর্তন এনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও বলেন, শিক্ষার্থী-বান্ধব অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে। এতে বইয়ের চাপ কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। ২০২৭ সালে পরিমার্জিত পাঠ্যবই চালু হলেও ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।