নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ধর্মীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এর উত্তর গেটসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান।
রাজধানীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদরাসায় হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভারত সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে একটি মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে আকরাম টাওয়ার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে পুরানা পল্টনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান বলেন, মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় ভারত সরকার ব্যর্থ হলে এর বিরূপ প্রভাব আঞ্চলিক সম্প্রীতির ওপর পড়বে।
অন্যদিকে আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে নেতারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদরাসায় হামলার ঘটনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সংগঠনটির আহ্বায়ক শওকত আমিন–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিভিন্ন ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এছাড়া তাহরীকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশ–এর উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সংগঠনটির আমির মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর দাবিও তোলা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশগুলোতে বক্তারা মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।