নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ করা ‘উচিত নয়’ বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) দেখানো হয়েছে এবং তদন্ত সংস্থার প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তিনি বলেন, “ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলাটির সুনির্দিষ্ট তদন্ত করছে, তাই তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা আমরা এখনো দেখিনি। তবে দেশের চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।”
শাপলা চত্বরের এই মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তে যাদেরই অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে আমরা নিশ্চিত করছি, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না।”
আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে এই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩১টি মামলার তদন্ত কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও তথ্য দেন যে, ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা পুনরায় তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন এবং সেগুলোর চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটির পর আদালতে জমা দেওয়া হবে।