শাহরিয়ার কবির, খুলনা
উন্নয়নের নানা গালভরা প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের ভিড়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি সড়ক এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে চরম দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার ১০ নং গড়ইখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আমিরপুর-বাইনবাড়িয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এটি এখন যাতায়াতের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল দশা এখন হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের কান্নায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির পিচ ও ইটের সলিং পুরোপুরি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় বিপজ্জনক গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার আকার ধারণ করে, আর বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তাটি রূপ নেয় এক ভয়াবহ নরককুণ্ডে।
দেবব্রতের দোকানঘর থেকে দক্ষিণ আমিরপুর হয়ে বাইনবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন রমাকান্ত সরদারের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি এই অঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই ভাঙা পথ মাড়িয়েই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চলাচল করতে হয়। সড়কটির এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা। চিকিৎসকের কাছে রোগী নিয়ে যাওয়া কিংবা কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়া এখন এক দুঃসাধ্য সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাঁদের কণ্ঠে এখন কেবলই ক্ষোভ আর হতাশার সুর।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমেন মন্ডল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”এইটা এখন আর কোনো রাস্তা নাই—এটা আমাদের কপালে লেখা একটা দুর্ভোগের নাম। বছরের পর বছর ধরে নেতারা শুধু আমাদের সান্ত্বনা আর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা মানে মৃত্যুর মুখে পা দেওয়া। আমরা এখন আর কোনো ফাঁকা বুলি শুনতে চাই না, আমরা সরাসরি বাস্তব কাজ দেখতে চাই।”
একই এলাকার আরেক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা নির্বাচনমুখী রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন,”ভোটের সময় এলে সব বড় বড় নেতারা এসে হাত জোড় করেন, কত রঙের প্রতিশ্রুতি দেন! কিন্তু ভোট পার হয়ে গেলেই এই রাস্তার খোঁজ নেওয়ার মতো কোনো মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতির কাগজেই আটকে আছি, আমাদের বাস্তব কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
এলাকাবাসীর এই তীব্র ক্ষোভ ও সড়কের বেহাল দশা নিয়ে কথা বলতে গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এই জনদুর্ভোগ নিরসনে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।