আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পরস্পরবিরোধী মন্তব্য ও সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে পেন্টাগন এবং ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইউরোপ থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। তবে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার পোল্যান্ডে নতুন করে ৫ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন নীতিগত অস্থিরতা শুধু সামরিক পরিকল্পনাকেই জটিল করে তুলছে না, বরং দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের মধ্যেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সেনা স্থানান্তর ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়। ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিকল্পিতভাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে ইউরোপের আকাশসীমায় দীর্ঘদিন ধরে চলা রহস্যময় জিপিএস সিগন্যাল বিভ্রাটের পেছনে রাশিয়ার একটি সামরিক স্যাটেলাইট জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটি অ্যাট অস্টিনের রেডিওনেভিগেশন ল্যাবরেটরি এবং স্পেনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিএমভির যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ইউরোপ, গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শত শতবার হঠাৎ জিপিএস সিগন্যাল বিঘ্নিত হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এসব ঘটনা কোনো স্থলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে নয়, বরং মহাকাশে অবস্থানরত একটি স্যাটেলাইট থেকে পরিচালিত হয়েছে।
তাদের বিশ্লেষণে রাশিয়ার ‘কসমস-২৫৪৬’ নামের একটি সামরিক স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জিপিএসের বহুল ব্যবহৃত ‘এল-১’ ফ্রিকোয়েন্সিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের জ্যামিং পরিচালিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতের পরিস্থিতিতে পশ্চিমা বিশ্বের নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাইয়ের প্রচেষ্টা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জিপিএস প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল বেসামরিক বিমান চলাচল, সমুদ্র পরিবহন, স্মার্টফোন নেভিগেশন এবং সামরিক ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।