নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কার পর্ব ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন তা কেবল সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সংবিধানের মৌলিক সংস্কার যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, এখন কেবল সুনির্দিষ্ট সংশোধন আনা হবে।”
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চিফ হুইপের ভাষায়, সরকার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না; বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সবাইকে যুক্ত করেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল চাইলে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, কারণ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প পথ নেই।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন এবং জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক ঐকমত্য রয়েছে।
চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত “জুলাই সনদ”-এর সাংবিধানিক বিষয়গুলো মূল সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রায় সব পক্ষই একমত।
তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবনা ও মৌলিক অধিকার সংশোধনের বাইরে কিছু করা হলে তা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
তিনি অতীতের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও আদালতের নজির তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকতে পারে না।
চিফ হুইপের মতে, সাম্প্রতিক জনমত ও নির্বাচনী ফলাফলও প্রস্তাবিত সংস্কার ও সনদের পক্ষে জনগণের সমর্থনকে প্রতিফলিত করে।