নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিন মাসের মধ্যেই কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসার মর্মান্তিক ঘটনায় নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আইনের নির্ধারিত ধাপ অনুসরণ করেই রায় কার্যকর করতে হবে।
তিনি বলেন, “দোষীরা যদি উচ্চ আদালতে আপিল করতে চায়, তাহলে সরকারও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে সব ধরনের আইনি কার্যক্রম শেষ করে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।”
এ ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এত বড় ও নৃশংস অপরাধের ঘটনায় এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া দেশের বিচার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি জানান, ১৯ মে ঘটনাটি ঘটার পর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে, ২৪ মে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
তিনি বলেন, সরকারি ছুটি এবং আদালতের অবকাশকালীন সময়ের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতির সম্মতিতে দেশের শিশু ট্রাইব্যুনালগুলোকে আদালতের ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। এর ফলে চার্জশিট দাখিলের পর দ্রুত বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, ১ জুন অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) পর কার্যত মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
তিনি বলেন, “রামিসার এই বেদনাদায়ক ঘটনায় পুরো জাতি শোকাহত ছিল। আমরা তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব না, তবে রাষ্ট্র হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করেছি।”
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে এবং দোষীরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে।