নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রোববার আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর আপিল নিষ্পত্তি আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হলেও আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বিচার কার্যকর হতে দেখে না। ফলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়।
তিনি বলেন, বিচার শুধু রায় ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত শাস্তি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়েই বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা সুদৃঢ় হয়। সেই বিবেচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। শিশু রামিসা, আছিয়া ও রসু খাঁসহ এ ধরনের মামলাগুলো ওই বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় মুলতবি না চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে মামলাগুলোর শুনানি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে বিচারিক আদালতগুলোর অবকাশকাল চললেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ আখ্যা দিয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ, বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি এবং আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেবল আলোচিত মামলাগুলোর ক্ষেত্রেই নয়, দেশের প্রতিটি অপরাধের দ্রুত তদন্ত, বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচারপ্রক্রিয়ায় সমতা ও দ্রুততা নিশ্চিত হলেই জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হবে।