আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলকে হয়তো একাই লড়াই করতে হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট নতুন সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুকে তিনি সরাসরি সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি বিবিকে বলেছি, আরও সতর্ক হওয়া উচিত। তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা হয়ে যেতে হবে।’
রোববার বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা চালায়।
এক টেলিভিশন ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তারা সেই অধিকার প্রয়োগ করবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান আবার হামলা চালালে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই বাক্যবিনিময়কে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হওয়ায় যেকোনো লঙ্ঘনের দায়ও ওয়াশিংটনকে নিতে হবে।
চরম উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা শুধু ইরান-ইসরায়েল সংকট নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।