• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

তিন মাসে ২.৫৯ বিলিয়ন ডলার কমেছে বৈদেশিক ঋণ, নেমে এসেছে ১১০.৯৩ বিলিয়নে

প্রতিবেদক / ২ বার
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২০২৬ সালের মার্চ শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই ঋণের স্থিতি ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বৈদেশিক ঋণ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিদেশি ঋণ গ্রহণে সরকার ও বেসরকারি খাতের তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান—এই হ্রাসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু ঋণ কমা নয়, ঋণের কাঠামো, ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ পরিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ এখনো সরকারি খাতে। মার্চ শেষে সরকারি খাতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে সাধারণ সরকারের দায়ই ৭৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।

সরকারি খাতের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণও কমেছে। ডিসেম্বরের ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে তা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু বড় প্রকল্প শেষ হওয়া এবং নতুন ঋণ গ্রহণ কমে যাওয়ায় এ হ্রাস ঘটেছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ খুব সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারে। উচ্চ সুদহার, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগে ধীরগতির কারণে নতুন বিদেশি ঋণ গ্রহণে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই খাতের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট বেসরকারি বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ। এর মধ্যে বায়ার্স ক্রেডিট ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) থেকে নেওয়া ঋণ উল্লেখযোগ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ কমে আসা আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা জরুরি।
তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা না গেলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈদেশিক ঋণ কমে আসাকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও, এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে সঠিক নীতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা