• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

পাইকগাছায় পাউবোর জমি বেদখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে মরিয়া প্রভাবশালী চক্র

প্রতিবেদক / ০ বার
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

খুলনা প্রতিনিধি।।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চক বগুড়া মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় এক একর সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে পাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যক্তি সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। উপজেলার ১০/১২ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন শিববাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন ওই জমিতে নির্মাণাধীন স্থাপনাটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিববাড়ি ব্রিজের নিচে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মহলে প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অথচ সরকারি সম্পত্তির ওপর স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে ভবিষ্যতে মালিকানা দাবি প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একসময় পুরো জমিই বেদখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, পাউবোর জমি নদী, খাল, বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব জমি দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) রাজু হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা