দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু জন রায়ান জুনিয়র তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ডাভেইগ। মেনিনজাইটিস থেকে সৃষ্ট জটিলতা এবং রক্তে সংক্রমণের কারণে সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে অপুষ্টিজনিত সমস্যার কারণেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।
মাত্র চার বছর বয়সে ভয়েসওভার ও থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন ডাভেইগ। পরে শিশুশিল্পী হিসেবে হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। টেলিভিশন সিরিজ ‘সাবরিনা দ্য টিনএজ উইচ’-এ ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি।
সিনেমাটিতে সামারা মর্গান চরিত্রে তার অভিনয় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। টেলিভিশনের পর্দা ভেদ করে বেরিয়ে আসা ভয়ংকর সেই চরিত্রের জন্য ২০০৩ সালে এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ডস-এ ‘সেরা খলনায়ক’ পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ডাভেইগ। ডিজনির অ্যানিমেটেড হিট সিনেমা ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এ লিলো চরিত্রে কণ্ঠ দিয়ে কোটি কোটি শিশুর হৃদয় জয় করেছিলেন তিনি। এছাড়া অস্কারজয়ী জাপানি অ্যানিমেশন ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’র ইংরেজি সংস্করণে চিহিরো চরিত্রেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন ডাভেইগ।
কর্মজীবনে সাফল্যের শিখরে উঠলেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিনয়জগত থেকে অনেকটা দূরে সরে যান এবং স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রে কাজ করতে বেশি আগ্রহী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ডাভেইগ চেজের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হলিউডে। ‘লিলো’ কিংবা ‘সামারা’-দুই ভিন্নধর্মী চরিত্রে তার অনবদ্য উপস্থিতি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।