কাবা মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। মক্কার মসজিদুল হারামের কেন্দ্রে অবস্থিত এই ঘরকে ঘিরে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। তবে পবিত্র হারাম এলাকায় যুদ্ধ ও রক্তপাত নিষিদ্ধ হলেও ইতিহাসে কাবা বহুবার হামলা, অবরোধ ও ক্ষয়ক্ষতির সাক্ষী হয়েছে।
৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগুনে কাবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেই বিরোধ মীমাংসা করে নিজ হাতে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করেন।
এর প্রায় ৮২ বছর পর, ৬৮৩ সালে ইয়াজিদের বাহিনী মক্কা অবরোধ করলে কাবা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) কাবা পুনর্নির্মাণ করেন। তবে পরবর্তীতে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের অবরোধের পর কাবাকে আবার আগের আকৃতিতে ফিরিয়ে আনা হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি ঘটে ৯৩০ সালে। কার্মাতি বিদ্রোহীরা মক্কায় হামলা চালিয়ে হাজিদের হত্যা করে এবং হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায়। ২৩ বছর পর পাথরটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ১৬২৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় কাবার দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হলে উসমানি সুলতান চতুর্থ মুরাদের আমলে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়।
আর আধুনিক ইতিহাসে ১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর জুহাইমান আল-ওতাইবির নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল মসজিদুল হারাম দখল করে। প্রায় দুই সপ্তাহের অভিযানের পর হারাম শরিফ পুনর্দখল করা হয়।
ইতিহাসের নানা সংঘাত পেরিয়েও কাবা আজও বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ইবাদত, ঐক্য ও একত্ববাদের কেন্দ্র হয়ে আছে।