• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা গরুর মাংস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? কেনার আগে যেভাবে চিনবেন

প্রতিবেদক / ২৫ বার
আপডেট : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে কিছু অসাধু খামারি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা অধিক মুনাফার আশায় পশুকে দ্রুত বড় করার জন্য অনৈতিক ও ক্ষতিকর উপায় ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেরয়েড, হরমোন ইনজেকশন এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া জাতীয় উপাদান প্রয়োগ।

চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, এভাবে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশুর মাংস মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এমন মাংস গ্রহণে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পশুর শরীরে অতিরিক্ত ইউরিয়া বা রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাটে আনার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে। বিশেষজ্ঞরা একে অনেক সময় “ঝুঁকিপূর্ণ পশু” হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঐতিহাসিকভাবে পশু উৎপাদনে কিছু হরমোন ও রাসায়নিক ব্যবহারের নজির থাকলেও বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে এগুলোর ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে ওষুধ প্রতিরোধী সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশু চেনার কিছু লক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ লক্ষণ দেখে সাধারণ ক্রেতারাও সতর্ক হতে পারেন—
পশুর পেছনের রানের অংশে চাপ দিলে যদি জায়গাটি অনেক সময় দেবে থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।
স্বাভাবিক পশু সাধারণত চটপটে ও সতর্ক থাকে, কিন্তু কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা পশু তুলনামূলকভাবে নিস্তেজ ও অলস দেখা যেতে পারে।
এমন পশুর শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক সময় দ্রুত ও ভারী হতে পারে, সামান্য হাঁটলেই হাঁপিয়ে যায়।
মুখে অতিরিক্ত লালা, ফেনা বা শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
শরীর স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বা জ্বরের মতো অনুভূত হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া পশুর শরীর সাধারণত শক্ত ও টানটান থাকে, নাক কিছুটা ভেজা থাকে এবং আচরণে স্বাভাবিক চঞ্চলতা দেখা যায়।
বিশেষ সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, দিনের আলোতে হাটে গিয়ে পশু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। রাতের কৃত্রিম আলোতে অনেক শারীরিক লক্ষণ স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। তাই ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সচেতনভাবে পশু নির্বাচন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা