• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানি চলছে

প্রতিবেদক / ২৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ত্যাগের মহিমায় রাজধানী ঢাকার পাড়া-মহল্লায় পবিত্র ঈদুল আজহার পশু কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদের জামাত শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সাধ্য অনুযায়ী উট, দুম্বা, গরু ও ছাগল কোরবানি করেন। রাজধানীর অলিগলি, মহল্লা, আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবনের নিচতলায় সকাল থেকেই পশু জবাই ও মাংস কাটার ব্যস্ততা চোখে পড়ে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে বৃষ্টি না থাকায় ঈদের প্রধান জামাত শেষে নগরবাসী দ্রুত কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। রামপুরার জামতলায় গলিতে সকালে দলবেঁধে পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, এটি মূলত ত্যাগের শিক্ষা দেয়। প্রতিবছর পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে কোরবানি করার মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।এদিকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার অনেক পরিবারকেই যৌথভাবে বা ভাগে কোরবানি দিতে দেখা গেছে। রামপুরার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, আগে অনেকেই আলাদাভাবে কোরবানি দিতেন, তবে এবার খরচ সামাল দিতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চার-পাঁচজন মিলে যৌথভাবে পশু কোরবানি করছেন।

সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ শেষেই আমরা ৪ জন মিলে ভাগে কেনা গরু কোরবানি দিয়েছি। আজকাল অনেকেই ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে কোরবানি দিচ্ছেন, কিন্তু কোরবানির পশুর সামনে নিজে উপস্থিত না থাকলে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় না। তা ছাড়া বাসার সামনে কোরবানি হলে পরিবারের শিশু-কিশোররাও ঈদের আসল আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই ও মৌসুমি মাংস বিক্রেতারা। কসাই রিপন মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঈদের এই দিনটিতে তাদের উপার্জনের বড় সুযোগ তৈরি হয়। সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত একেকটি দলকে ৫ থেকে ৭টি পর্যন্ত গরু কাটার কাজ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ঈদের উচ্ছ্বাস ছিল লক্ষণীয়। নতুন পোশাকে সেজে তারা কোরবানির পশুর মাংস কাটা দেখছিল এবং আনন্দ ভাগাভাগি করছিল। স্কুলশিক্ষার্থী নাঈম হাসান জানায়, নামাজ শেষেই সে বড়দের সাথে কোরবানি দেখায় মেতে ওঠে এবং বিকেলে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে মাংস পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সব মিলিয়ে এক পবিত্র ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীতে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা