নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর ধীরে ধীরে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ নীরব সাক্ষ্যভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন দুর্লভ দলিল, ঐতিহাসিক রায়, বিচারকদের ব্যবহৃত সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র, যা আইন অঙ্গনের অতীতকে জীবন্ত করে তুলছে।
জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ১৭১০ সালের তালপাতায় লেখা একটি বিরল রায়, যা বিচার ইতিহাসের এক অমূল্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রেকর্ড রুম থেকে শুরু হয়ে এটি পরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরে স্থান পায়।
এছাড়া জাদুঘরে রয়েছে হাতে লেখা বাংলাদেশের মূল সংবিধানের কপি, ঐতিহাসিক ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার রায় এবং তৎকালীন কলকাতা ও ঢাকা হাইকোর্টের ব্যবহৃত দেয়াল ঘড়ি। বিচারপতিদের ব্যবহৃত দোয়াত-কলম, গাউন, উইগ ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক সামগ্রীও এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।
জাদুঘরের একটি বিস্তৃত অংশজুড়ে রয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বিশিষ্ট বিচারকদের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত গাউন, কলম, চশমা, ফাইল ও আসবাবপত্র। পাশাপাশি আদালত ভবনের পুরোনো ছবি, শপথ অনুষ্ঠানের দৃশ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিচার কার্যক্রমের আলোকচিত্র বিচার বিভাগের ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাসসকে বলেন, এই জাদুঘর বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ও আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে আইন শিক্ষার্থী ও নবীন আইনজীবীরা এখান থেকে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাস সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন।
২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে এটি বিচার বিভাগের ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ক্রমেই সমাদৃত হয়ে উঠছে।