চীনের প্রযুক্তি অগ্রগতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এমন এক প্রযুক্তি সামনে এসেছে, যেখানে সন্দেহভাজনের মুখ ও শরীরের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেই তার শারীরিক অবস্থা, মানসিক স্থিতি এবং সম্ভাব্য আচরণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত এসব প্রযুক্তি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিয়ানজিনভিত্তিক এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমন ক্যামেরা তৈরি করেছে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের পর্যবেক্ষণেই হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, অক্সিজেনের মাত্রা এবং রক্তপ্রবাহের মতো শারীরিক সূচক শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে একাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।
অন্যদিকে, আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এমন ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা মুখভঙ্গি, কণ্ঠস্বর ও আচরণ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির মানসিক অবস্থা ও সম্ভাব্য প্রবণতা সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তি কয়েক কোটি মানুষের তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষিত এবং ইতোমধ্যে চীনের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও নিরাপত্তা সংস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা যায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হলেও মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মনস্তত্ত্ব পর্যবেক্ষণের সীমা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বিস্তার ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে—যেখানে প্রশ্ন উঠছে প্রযুক্তি কতটা দেখবে, আর মানুষ কতটা স্বাধীন থাকবে।
বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ