পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ও সংকটের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এবার কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অবস্থানকালেই শর্তসাপেক্ষে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য সমন্বয় বা একীভূতকরণ নিয়ে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র মতবিভাজন দেখা দিয়েছে।
একদিকে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল শাসনামলের বিতর্কের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে নেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। এতে দলের ভিতরে ক্ষোভ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান স্পষ্টভাবে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনো জোট নয়।” একই অবস্থান জানিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি মন্তব্য করেন, যিনি একসময় কংগ্রেস ভেঙেছিলেন, এখন তাঁকেই পরিস্থিতির চাপে কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কিছুটা নরম অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ দলে যোগ দিতে চাইলে তাকে মানতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং তিনিই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মুখ।
এদিকে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে দিল্লিতে হওয়া ধারাবাহিক বৈঠক। ১০ জনপথে দীর্ঘ সময় বৈঠক হয় সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। একই সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। পরপর দুই দিনের এই শীর্ষ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সব মিলিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট, কংগ্রেসের ভেতরের দ্বিধা এবং শীর্ষ পর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠক—সবকিছু মিলিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ