ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি এক বিশাল আবেগ, উৎসব আর বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের মিলনমেলা। আর এই মহোৎসবের মাঠের বাইরেও যাঁরা বারবার আলোচনায় উঠে আসেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরা।
গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের সঙ্গে তাঁর নাম একপ্রকার অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ গানটি বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় সংগীত হিসেবে আজও গানটি সমানভাবে জীবন্ত।
এর চার বছর পর ব্রাজিল বিশ্বকাপে তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসেন ‘লা লা লা (ব্রাজিল ২০১৪)’ গানের মাধ্যমে। ফুটবল তারকাদের উপস্থিতি ও তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা সেই বিশ্বকাপের আবহকে আরও রঙিন ও উৎসবমুখর করে তোলে।
সময় পেরিয়ে গেলেও শাকিরার জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তিনি আবারও নতুনভাবে ফিরে এসেছেন। এবারের আসরের থিম সংগীত ‘দাই দাই’-এ তাঁর কণ্ঠ নতুন করে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রকাশের পর থেকেই গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শুধু সংগীত নয়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তিনি মঞ্চ মাতিয়েছেন। হাজারো দর্শকের সামনে তাঁর উদ্দীপ্ত পারফরম্যান্স পুরো উদ্বোধনী পর্বকে আরও বর্ণিল ও স্মরণীয় করে তোলে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক শিল্পীই গান গেয়েছেন, তবে খুব কমজনই আছেন যাঁরা প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত হতে পেরেছেন। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থেকে ‘লা লা লা’, আর এখন ‘দাই দাই’—প্রতিটি অধ্যায়ে শাকিরা রেখে গেছেন ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও স্মৃতি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপের মাঠে যেমন ফুটবলারদের নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে, তেমনি সংগীতের জগতে শাকিরা হয়ে উঠেছেন এই আসরের এক অনন্য মুখ। আর সেই কারণেই এবারের সপ্তাহের সেরা তারকা হিসেবে তিনি আবারও উঠে এসেছেন আলোচনার শীর্ষে।
বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ