আলমগীর কবীর হৃদয়, পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
পাবনার প্রাণপ্রবাহ ইছামতি নদী পুনরুদ্ধারে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা এবং করণীয় বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন, পাবনার নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে সিনসা সাহিত্য গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় পাবনা শহর অংশে ইছামতি নদীর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, খননকাজের বর্তমান অগ্রগতি এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, পাবনা শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে নদী খননকাজ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন ১৪১টি মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া শহরের ১৩টি সেতু নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে খননকাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব সমস্যা দ্রুত নিরসনে জেলা প্রশাসকের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি ইছামতি নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
মতবিনিময় সভা শেষে পাবনায় যোগদানের পর সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন, অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৎ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান এবং সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় ১৮ জন কর্মচারীকে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপনের স্বীকৃতিস্বরূপ সিনসা সাহিত্য গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়।
ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন, পাবনার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এস. এম. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী পূর্ণিমা ইসলাম, রিভারাইন পিপল পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ও নদী গবেষক ড. মনছুর আলম, পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী ফারজানা ইয়াছমিন, দৈনিক পাবনার বাণী–এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রহমতুল্লাহ দোলন এবং দৈনিক ঘোষণা–এর কৌশিক হোসেন।
সভায় বক্তারা ইছামতি নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে দ্রুত খননকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।