• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

মেঘনায় প্রবাসীর স্ত্রী ১৫ ভরি স্বর্ণ, ৪৫ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

প্রতিবেদক / ২২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এক প্রবাসী যুবক তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগকারী মো. ফারুক মিয়া (৩৫) মানিকার চর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। পারিবারিকভাবে ২০১৮ সালের ১৫ মে গোবিন্দপুর গ্রামের মুক্তা আক্তার (২৬)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফারুক মিয়ার অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে জমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি স্ত্রীর কাছে ধাপে ধাপে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা এবং কয়েক দফায় প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পাঠান। পরবর্তীতে এসব অর্থ ও স্বর্ণের হিসাব চাইলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়।

তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি কাউকে কিছু না জানিয়ে দেশে ফিরে স্ত্রীর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন তাদের ৭ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে রেখে তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে তাকে না জানিয়ে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে, যা তিনি পরে জানতে পারেন। ডিভোর্সের আগ পর্যন্তও তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সংক্রান্ত প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও জানান।

ফারুক মিয়া আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এ সময় মানিকার চর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভুঁইয়ার মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কর্নেল সুমন’ নামে পরিচিত এক আত্মীয় বিষয়টি দেখছেন।

এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়। তার দাবি, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন এবং জানান, সরাসরি মামলা নেওয়া সম্ভব নয়। পরে তিনি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার একটি সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তাৎক্ষণিক মামলা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়। তবে অভিযুক্ত নারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মুক্তা আক্তারের মা শেফালী বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে ফারুক মিয়ার সম্পর্ক ভালো ছিল না এবং তিনি ফোনে প্রায়ই খারাপ ব্যবহার করতেন। স্বর্ণালঙ্কার ও টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয়। বিয়ের সময় যে স্বর্ণ দেওয়া হয়েছিল, তা বিভিন্ন কারণে তারা নিজেরাই খরচ করে ফেলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা