আলমগীর কবীর হৃদয় (পাবনা জেলা প্রতিনিধি)
পাবনা জেলা শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে শহরের আওরঙ্গজেব রোডে অবস্থিত ‘লাকি বোর্ডিং’ নামের হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দুর্গন্ধ থেকে সন্দেহ, পরে মরদেহ উদ্ধার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। এতে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত পাবনা সদর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষটির তালাবদ্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় বিছানার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় গলাকাটা তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত একদিন আগে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ, সন্দেহ ঘনীভূত ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিক, ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মচারীদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো হোটেলটি ফাঁকা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। তাদের এই আকস্মিক আত্মগোপন হত্যাকাণ্ডে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা বা তথ্য গোপনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ, সিআইডি ইউনিটকে ডাকা হয়েছে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, “ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মরদেহটি আপাতত হোটেলেই আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিগত সহায়তায় আলামত সংগ্রহের জন্য সিরাজগঞ্জ থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তকরণ, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে হোটেলের রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে উদ্বেগ বিরাজ করছে।