আলমগীর কবীর হৃদয় | স্টাফ রিপোর্টার
পাবনায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি ম্যাগাজিনসহ এক চিহ্নিত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) পাবনা সদর থানা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর চর মণ্ডলপাড়া গ্রামের পরীর মাঠ সংলগ্ন ইছামতি ক্যানেলের শালতলা ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে রাশেদুল (পিতা- শুকুর শেখ) নামে এক ব্যক্তির চা ও মুদি দোকানের সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর থেকে সন্দেহভাজন মোঃ রাতুল ইসলাম (২৩)-কে আটক করা হয়। পরে তার কাঁধে ঝোলানো একটি কালো রঙের ছোট সাইড ব্যাগ তল্লাশি করে দুটি সচল বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রাতুল ইসলাম পাবনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ রাসেল ইসলাম এবং মাতার নাম রুনা খাতুন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাতুল পুলিশকে জানায়, তার কয়েকজন পলাতক সহযোগী আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে ভুরিভোজের আয়োজনের জন্য অর্থ সংগ্রহে এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিল। এক পর্যায়ে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং তার মালিকানাধীন একটি অটোরিকশা আটকে রাখা হয়। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে অটোরিকশাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেও পরে জাকির হোসেনের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে সহযোগীরা অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি রাতুলের কাছে রেখে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রাতুল অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি সচল বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড ৭.৬৫ ক্যালিবারের তাজা গুলি, একটি কালো রঙের সাইড ব্যাগ এবং একটি ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাবনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।