আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কেবল অস্থায়ী বিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন কাজ করছে। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার আভাস দেখা যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের স্থায়ী অবসান দেখতে চান। তার মতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা গেলে ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির পথ সহজ হতে পারে।
এর আগে রাশিয়া ৮ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সিদ্ধান্ত নেন। পরে মস্কো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা এবং কিয়েভের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের পর যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ১১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ৮ মে মধ্যরাত থেকে তাদের বাহিনী বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। তবে একই সঙ্গে মস্কো অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ অবস্থান ও কিছু বেসামরিক এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।
যদিও কিয়েভ এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির বাস্তব চিত্র নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। তার প্রশাসন বর্তমানে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় রূপ দিতে পারলে সেটিই স্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরি করবে।
ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশও বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে শুধু যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়; নিরাপত্তা, সীমান্ত, ভূখণ্ড এবং রাজনৈতিক আস্থার মতো জটিল ইস্যুতেও সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মহল ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখছে। এখন নজর রয়েছে ১১ মে-পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে। যদি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়, তাহলে তা ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে চলমান সংঘাতের বাস্তবতা বিবেচনায় স্থায়ী সমাধান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র : তাস।