স্পোর্টস ডেস্কঃ
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ দিন আগেই শিক্ষাবর্ষ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবক, শিক্ষা বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আগাম ছুটির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শুক্রবার (৮ মে) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটি-তে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ফুটবল দল-এর ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মারিও ডেলগাডো জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষ ৫ জুনের মধ্যেই শেষ করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
উত্তরাঞ্চলীয় সোনোরা রাজ্যের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেক এলাকায় এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে। সেই বাস্তবতার পাশাপাশি বিশ্বকাপের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
তবে আগাম ছুটির ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। তারা বলছেন, হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সন্তানদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোও চাপে পড়বে।
মেক্সিকো ইভালুয়া সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে গেলে বিদ্যমান শিক্ষাবৈষম্য আরও বাড়বে এবং পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন কোপারমেক্স আগাম স্কুল ছুটির সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, এতে কর্মজীবী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন কাজের সূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক প্রভাবাধীন পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিসকো রাজ্য এই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখবে। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে গুয়াদালাহারা-য় যেসব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, শুধু সেই দিনগুলোতে নিরাপত্তা ও যানজট বিবেচনায় স্কুল বন্ধ রাখা হবে।