বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের সম্পদের পাহাড়ও আরও বড় হচ্ছে। নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য—২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ জনে। আর তাদের সম্মিলিত সম্পদ প্রথমবারের মতো ছাড়িয়েছে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা।
আলট্রাটার ‘বিলিয়নিয়ার সেনসাস ২০২৬’ অনুযায়ী, এক বছরে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর তাদের মোট সম্পদ বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই বিলিয়নিয়ার বৃদ্ধির সবচেয়ে শক্তিশালী বার্ষিক প্রবৃদ্ধি।
এই সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, প্রযুক্তি খাত এবং শেয়ারবাজারের উত্থান। আলট্রাটার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব বড় কোম্পানি এআইয়ে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম এআই বিনিয়োগকারী কোম্পানির চেয়ে ২৩ শতাংশ দ্রুত বেড়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক সম্পদের বণ্টনে।
বিশ্বের মাত্র ২৯ জন ‘সুপার বিলিয়নিয়ার’, যাদের প্রত্যেকের সম্পদ ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তাদের হাতেই রয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বিশ্বের সব বিলিয়নিয়ারের মোট সম্পদের প্রায় ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছেন মাত্র ২৯ জন!
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ার রয়েছেন উত্তর আমেরিকায়—১ হাজার ৩৩৭ জন। এরপর ইউরোপে ১ হাজার ৮১ এবং এশিয়ায় ৮৮১ জন।
দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে দেশটিতে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জনে। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার।
আর এখানেই সামনে আসছে সম্পদবৈষম্যের বড় প্রশ্ন। কারণ বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বাড়লেও সম্পদের বড় অংশ ক্রমেই চলে যাচ্ছে অল্প কয়েকজনের হাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ভবিষ্যতেও নতুন সম্পদ তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারে বড় ধরনের ওঠানামা হলে এই বিলিয়নিয়ারদের সম্পদও দ্রুত কমে যেতে পারে।
অর্থাৎ, বিশ্বের ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন—কিন্তু সেই সম্পদ কতজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ডেস্ক:বাংলাদেশ নিউজ টুডে