আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলোকে একত্রিত করে একটি যৌথ মঞ্চ গঠনের তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জী-এর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বামপন্থী দল Communist Party of India (Marxist) (সিপিএম)। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তারা এই ধরনের কোনো রাজনৈতিক জোটে অংশ নেবে না।
রোববার (১০ মে) সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাংবাদিকদের জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো ধরনের নির্বাচনী বা রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষায় বলেন, “না, একদম না।”
এর ফলে বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের সম্ভাবনা শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এর আগে শনিবার (৯ মে) কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে এক কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে রুখতে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে বিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যেমন ‘ইন্ডিয়া’ জোট গড়ে উঠেছে, তেমনই রাজ্য পর্যায়েও সব বিরোধী শক্তির একত্র হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বিশেষভাবে বাম ও অতিবাম দলগুলোকেও এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাদের সঙ্গে অতীতে তৃণমূলের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ ছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও পুরনো প্রতিপক্ষ বামদের কাছে টানার এই উদ্যোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে সিপিএম নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে। মহম্মদ সেলিম দাবি করেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের কারণেই তারা কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না। তিনি আরও বলেন, বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা “নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ কোনো শক্তির” সঙ্গে হাত মেলাবে না।
সিপিএমের তরুণ নেতৃত্ব ও প্রাক্তন ছাত্রনেতারাও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ভেতরের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের আলোচনা চললেও বাস্তবে বাম ও তৃণমূলের মধ্যে আস্থার সংকট এখনও গভীরই রয়ে গেছে।