আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৮ দশমিক ৫১ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা এখন কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি কঠোর সীমারেখা বা “রেড লাইন” নির্ধারণ করেছে। তবে ইরানের দেওয়া জবাবকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন—ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় বাধার মুখে পড়তে পারে।
এর মধ্যেই ইরানি জাহাজ ও বন্দর লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইরানি পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপরও।
যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৫২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৩ ডলারের নিচে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা এখন নির্ভর করছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর।