আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)। গত রবিবার পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয় এবং বর্তমানে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম এলাকায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ঘটনাটিকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে অন্তত আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার আগে দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় নজরদারি ও রেকি চালানো হয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন বিশাল শ্রীবাস্তব, রাজ সিং এবং মায়াঙ্ক মিশ্র। তাদের মধ্যে বিশাল শ্রীবাস্তব বিহারের বক্সার জেলার বাসিন্দা এবং বাকি দুজন উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুলিশ ধারণা করছে, এদের মধ্যে একজন পেশাদার শার্পশুটার হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ ও আন্তঃরাজ্য সংযোগের সূত্র পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত নজরদারি, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে, যেখানে একটি গাড়ি বালি টোল প্লাজা অতিক্রম করার সময় শনাক্ত হয়। ওই গাড়ির এক আরোহীর ইউপিআই লেনদেনের সূত্র ধরে একটি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে পুরো গ্যাংয়ের অবস্থান নির্ধারণে সহায়তা করে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মধ্যমগ্রাম ক্রসিংয়ের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি প্রথমে একটি গাড়ি দ্বারা গতিরোধ করা হয়। পরে একটি মোটরসাইকেল এসে যোগ দেয় এবং সেখানেই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে।
তবে বিস্তৃত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সমন্বয়ে তদন্তকারী সংস্থা ধীরে ধীরে পুরো চক্রের জট খুলতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে এসআইটি বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।