• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা হাজারো মরদেহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি

প্রতিবেদক / ৪৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

গাজা উপত্যকা আজ এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিচ্ছবি। টানা সংঘাত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের তীব্র সংকট এবং দীর্ঘদিনের অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল জানিয়েছেন, বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম রয়েছে তা অত্যন্ত পুরোনো এবং ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ প্রতিদিনই নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য আসছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে লাশ পড়ে থাকায় পুরো এলাকায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটছে, যা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে বাধা থাকায় উদ্ধার কাজ কার্যত থমকে আছে। কেবল সীমিত কিছু সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় এখনো ছয় কোটি দশ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ রয়ে গেছে। এর মাত্র এক শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ইসরাইলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে এক লাখেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, এবং আরও বহু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো অঞ্চলের বড় একটি অংশ এখন বসবাসের অযোগ্য।

বিশ্বের একাধিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, গাজাকে পুরোপুরি পরিষ্কার ও পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, যা একশো কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সহিংস ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিকভাবে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে দ্রুতই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

এর আগে হাঙ্গেরির আগের সরকার এই সিদ্ধান্তে বাধা দিয়ে আসছিল। তবে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, এখন আর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞায় বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভাল্টোনেন বলেছেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ এবং বহু মানুষ আটক হয়েছেন।

উল্লেখ্য, দুই হাজার তেইশ সালের সাত অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।

এরপর থেকে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা সত্তর হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন এক লক্ষ সত্তর হাজারেরও বেশি মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা