আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান দীর্ঘ ১০ সপ্তাহের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব এখন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় রিয়াদ
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব তার জাতীয় সুরক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের সময় মার্কিন ‘নিরাপত্তা বলয়’ ভেদ করে ইরানি হামলার সক্ষমতা রিয়াদকে ভাবিয়ে তুলেছে। ওয়াশিংটনের সুরক্ষা কবচ থাকা সত্ত্বেও ইরান লক্ষ্যভেদে সক্ষম হওয়ায় সৌদি আরব নিজেকে অনেকটা অরক্ষিত বোধ করতে শুরু করে। ফলে সংঘাত যেন আর না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে রিয়াদ সরাসরি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেয়।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সমঝোতার পথ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে সামরিক হামলায় অংশ নিলেও সৌদি আরব শুরু থেকেই সংযত অবস্থান গ্রহণ করে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। জানা গেছে, সৌদি আরব সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইরানকে আগেভাগেই তথ্য দিয়ে সতর্ক করেছিল। একইসঙ্গে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি এবং নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ একটি স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
আঞ্চলিক স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কোনো দীর্ঘমেয়াদী পারস্পরিক বিশ্বাসের ফল নয়, বরং সংঘাত যেন বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়—সেই অভিন্ন স্বার্থেই দুই দেশ একমত হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, অঞ্চলের জনগণের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সবসময়ই উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কার্যকর সমঝোতা
গত ৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয়। একজন ইরানি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং শত্রুতা বন্ধের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন বড় সংকটে শুধু পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।