• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

আস্থা ভোটে বড় জয় থালাপতি বিজয়ের, তামিলনাড়ু রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

প্রতিবেদক / ১৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, যিনি থালাপতি বিজয় নামে পরিচিত। মোট ১৪৪ ভোট পেয়ে তিনি আস্থা ভোটে বিজয় নিশ্চিত করেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তির উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত এই আস্থা ভোটে বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ২২টি। ভোটদানে বিরত ছিলেন ৫ জন বিধায়ক। ভোটের আগে বিরোধী দল ডিএমকের ৫৯ জন বিধায়ক সভা থেকে ওয়াকআউট করেন, যা ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলে।

বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার নিজের দল ছাড়াও আইইউএমএল, কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং এআইএডিএমকের একটি বিদ্রোহী অংশের সমর্থন পায়। বিশেষ করে এআইএডিএমকের অভ্যন্তরীণ ভাঙনই আস্থা ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দলের প্রধান এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এস পি ভেলুমানি ও সি ভি শানমুগামের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন বিধায়ক বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানান বলে জানা যায়। এর ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেয় এআইএডিএমকে নেতৃত্ব। শানমুগাম, ভেলুমানি ও সি বিজয় ভাস্করের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ২৪ জন বিধায়কের পদ বাতিলের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বহিষ্কৃত নেতা সি ভি শানমুগাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দলীয় নেতৃত্ব বিগত কয়েক বছর ধরে বিরোধী কণ্ঠ দমন করে আসছে এবং যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদেরই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আস্থা ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিজয় ডিএমকেকে ‘অহংকারী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, তার দল টিভিকে এককভাবে নির্বাচনে ৩৪.৯২ শতাংশ ভোট পেয়ে জনসমর্থনে এগিয়ে আছে, যেখানে ডিএমকে জোট পেয়েছে ২৪.১৯ শতাংশ ভোট।

এদিকে ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান দাবি করেছেন, তাকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—ডিএমকে ও এআইএডিএমকে উভয় পক্ষ থেকেই। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।

নতুন সরকারের শুরুর দিকেই কিছু সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্দির, স্কুল ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭০০টিরও বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়ে আলোচনায় আসেন বিজয়। একই সময়ে জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে স্পেশাল ডিউটি অফিসার (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হলে পরে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ভারতের অন্য রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের বড় জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ু ও কেরালার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা