আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ইস্যু ঘিরে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক শর্ত ও অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স জানান, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করলেও কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।
ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের চেষ্টা চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
অন্যদিকে, আলোচনার পাশাপাশি ইরান নিজেদের কৌশলগত অবস্থানও কঠোরভাবে তুলে ধরছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর ইরানের অধিকার ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত এবং এটি কোনো বিতর্কের বিষয় নয়।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ইসনার বরাতে জানা যায়, তেহরান ভবিষ্যতে বহিঃশক্তির চাপ ও নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চায়।
এদিকে আলোচনার টেবিলে নতুন শর্তও সামনে এনেছে ইরান। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, তবে ইরানও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়গুলোও একটি সামগ্রিক সমাধানের অংশ হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে কাছাকাছি মনে হলেও মূল ইস্যুগুলোতে এখনো গভীর মতভেদ রয়ে গেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আল জাজিরা