আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। নতুন নির্দেশনায় গরুসহ বিভিন্ন ধরনের গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর বা মহিষ জবাই করা যাবে না। অনুমোদন ছাড়া জবাই করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে কোনো পশুকে বিবেচনা করতে হলে তার বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের জন্য অনুপযুক্ত হতে হবে। গুরুতর রোগ, স্থায়ী অক্ষমতা কিংবা মারাত্মক আঘাতের কারণে পশুটি অচল হয়ে পড়লে তবেই জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
নতুন নিয়মে পশু জবাইয়ের স্থান নিয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে অনুমোদিত পশু কেবলমাত্র পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানা বা প্রশাসনের অনুমোদিত স্থানে জবাই করা যাবে। জনসমাগমপূর্ণ স্থান, রাস্তা বা খোলা জায়গায় পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা নির্ধারিত কর্মকর্তারা যেকোনো স্থানে পরিদর্শন করে আইন বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পরিদর্শন কাজে বাধা দিলে সেটিও আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অপরাধকে আমলযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল বলছে, এই ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, পশু কল্যাণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রিত জবাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরই এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি